ইরানে ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
কল্পনা করুন, এমন একটি রাত, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম! এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে আপনার একটি দোয়া বদলে দিতে পারে আপনার পুরো জীবন!
আপনি কি জানেন, এই রাতেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে?
এই রাতেই ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেন!
হ্যাঁ, আমি কথা বলছি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে!
এই ভিডিওতে আমরা জানব, লাইলাতুল কদর সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিস কী বলে এবং কীভাবে আমরা এই রাতকে আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত বানাতে পারি! তাই লাইলাতুল কদর রাতের বিশেষ দোয়া ও আমল সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার অনুরোধ করছি ।
লাইলাতুল কদর! এই শব্দ দু’টি আরবি ভাষার। যার অর্থ ভাগ্য নির্ধারণের রাত।
এই রাত এতই ফজিলতপূর্ণ যে, মহান আল্লাহ নিজেই কুরআনে ঘোষণা করেছেন নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কী জানো, লাইলাতুল কদর কী? এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম!
(সূরা কদর, আয়াত এক থেকে তিন)
এই রাতের গুরুত্ব এত বেশি যে, এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ এনে দেয়!
এ রাতে ফেরেশতারা এবং বিশেষভাবে জিবরাইল আলাইহে অসাল্লাম পৃথিবীতে নেমে আসেন, আর আল্লাহর রহমত ছড়িয়ে দেন।
নবিজি সালল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও প্রত্যাশার সঙ্গে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি)
অনেকেই জানতে চান, লাইলাতুল কদর আসলে কোন রাত?
রাসুলুল্লাহ সালল্লাহু আলাইসাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে এটি লুকিয়ে আছে।
বিশেষ করে একুশ,তেইশ,পঁচিশ,সাতাস এবং উনত্রিশ রাত্রিতে আমরা এই রাতের খোঁজ করতে পারি।
তবে অনেক হাদিসে ২৭ রমজানকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমাদের প্রিয় নবিজি সালল্লাহু আলাইসাল্লাম যখন রমজানের শেষ দশক আসত, তখন তিনি ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হতেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহু বর্ণনা করেছেন যখন রমজানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুল সালল্লাহু আলাইসাল্লাম ইবাদতে মশগুল হতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করতেন।
(সহিহ বুখারি)
আপনি যদি জানতে পারেন যে, আজই লাইলাতুল কদর, তাহলে কী দোয়া করবেন?
একদিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহুম রাসুলুল্লাহ সালল্লাহু আলাইহে অসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,
ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আমি জানতে পারি যে, আজ লাইলাতুল কদর, তাহলে কী দোয়া করব?
রাসুলুল্লাহ সালল্লাহু আলাইসাল্লাম বললেন তুমি বলবে: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালোবাস। তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও!
এই বিশেষ রাতকে সেরা উপায়ে কাটানোর জন্য আপনি করতে পারেন
✅ বেশি বেশি ইবাদত (নামাজ, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত)
✅ গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা
✅ দরুদ শরিফ পড়া
✅ দান-সদকা করা
✅ পরিবারের সাথে ভালো ব্যবহার করা
বন্ধুরা, এই রাত আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক অপূর্ব উপহার!
একটি রাতেই আমরা পেতে পারি হাজার মাসের সওয়াব!
তাই চলুন, আমরা এই রাতকে কাজে লাগাই এবং আল্লাহর রহমত লাভ করি!
আপনাদের কী মনে হয়, লাইলাতুল কদর নিয়ে আমাদের আরও কী করা উচিত?
কমেন্টে জানান,
Comments
Post a Comment