ইরানে ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা।
বিশ্বে অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাদের অনেকেরই পায়ে ঘা বা গ্যাংগ্রিন হয়। তখন পা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না। এই সমস্যা রোধে ডাইনামিক পেডোগ্রাফ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী।
কম্পিউটার ভিত্তিক যন্ত্রটি দিয়ে ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের তলায় ঘা হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, সেটি বের করা যায়। এতে বিশেষ জুতা তৈরি করে ডায়াবেটিক রোগীদের সম্ভাব্য পা কাটা থেকে রক্ষা করা যাবে। এখন বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের হাসপাতালেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
মহামারিতে কভিড রোগীর বিছানার জন্য তৈরি করেছেন নেগেটিভ প্রেসার আইসোলেশন ক্যানোপি, যাতে রোগী থেকে জীবাণু চিকিৎসক, নার্স বা অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে না পারে। বিশ্বে এ ধরনের ডিভাইস এই প্রথম। যন্ত্রটি সারা বিশ্বে সমাদৃত হবে বলে আশা করছেন অধ্যাপক রব্বানী। আবার দ*গ্ধ রোগীদের ত্বকে বাইরের জীবাণু ঢুকে যেন সংক্রমণ ঘটাতে না পারে, এ জন্য উদ্ভাবন করেছেন পজিটিভ প্রেসার আইসোলেশন ক্যানোপি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে প্রায় ৬০ জন রোগীর চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন চিকিৎসকরা। অধ্যাপক রব্বানীর ডিজাইন করা এবং নিজ হাতে তৈরি আরেকটি যন্ত্রের নাম ইএমজি ও নার্ভ কনডাকশন। স্নায়বিক রোগ নির্ণয়ে দেশে তৈরি প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক যন্ত্র এটি। এ জন্য আগে রোগীকে বিদেশে যেতে হতো। অধ্যাপক রব্বানীর প্রতিষ্ঠান বাইবিট উদ্ভাবিত স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত এমন ১৫টির যন্ত্র আছে বাজারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি প্রফেসর খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী বলেন, ‘আধুনিক চিকিৎসা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। চিকিৎসাযন্ত্র অত্যন্ত দামি। বেশি দামে কেনা সেই যন্ত্রও বেশিদিন টেকে না। কারণ এগুলো ডিজাইন করা হয় পশ্চিমের উপযোগী করে। তা ছাড়া এসব যন্ত্রের প্রায় সবই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান যার সফটওয়্যার লুকিয়ে রাখে। ফলে অন্য কারো পক্ষে সহজে এগুলো মেরামত করা সম্ভব হয় না। বিদেশ থেকে প্রস্তুতকারকের প্রকৌশলী এনে মেরামত করতে হয়। ফলে টেস্টের খরচও বাড়ে, যা বহন করে রোগী। আবার ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার নিচে যেসব যন্ত্র, যেমন—ইএমজি, এক্স-রে, আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানার, ইসিজি—এগুলো বিদেশ থেকে প্রকৌশলী এনে মেরামত করে পোষায় না। ফলে একবার নষ্ট হলে ফেলে দিতে হয়।’
অধ্যাপক রব্বানীর মতে, দেশের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা নিজস্ব জ্ঞান ও দক্ষতায় যদি এসব যন্ত্র দেশেই তৈরি করেন, তবেই এই সমস্যার সমাধান মিলবে। এ লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে কাজ করছেন একদল গবেষক।
Comments
Post a Comment